নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া (৬৫) গংয়ের বিরুদ্ধে ঢাকা-বেতকা পরিবহন দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা-বেতকা পরিবহন মালিকরা সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া (৬৫), সিরাজদিখান উপজেলা যুবদল সদস্য আলী জিন্নাহ তুহিন (৩০), সাবেক প্রচার সম্পাদক বাহাদুর ভূইয়া সুমন (৩২), সিরাজদিখান উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি নজরুল ইসলাম (৪০), কেয়াইন ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি নবু হোসেন (৩৫), সাধারণ সম্পাদক রবিন (৩৫), বিএনপি নেতা তালেব (৫০)সহ ২৫/৩০ জন মিলে সকাল ১০টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর চৌরাস্তায় ঢাকা-বেতকা পরিবহনের বাস থামিয়ে বাসের উপরে থাকা ঢাকা বেতকা পরিবহনের নামের উপর তাদের শঙ্খচিল নামের ব্যানার লাগিয়ে দেয়। এসময় বাসের ড্রাইভার ও হেলপাররা নিষেধ করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতিসহ হুমকি প্রদান করে।
বাস মালিক শঙ্কর ভাওয়াল বলেন, আজ (গতকাল শনিবার) সকালে আমার গাড়িটি বেতকা থেকে ছেড়ে ঢাকা যাচ্ছিল। গাড়িটি সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর এলাকায় আসা মাত্রই বিএনপি নেতা দেলোয়ার ভূইয়ার লোকজন এসে গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক তাদের ব্যানার লাগিয়ে দিয়ে গেছে।
বাস মালিক আকবর মজুমদার, রবি, মানিক শেখ, শুভ্রদেব ভাওয়াল, খোরশেদ আলম, মনির হোসেন, রনি শেখ, আলম শেখ বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আমাদের বাসগুলো ঢাকা-বতকা সড়কে চলাচল করে আসছিল। আজ (গতকাল শনিবার) সকালে বিএনপি নেতা দেলোয়ার ও তার লোকজন মিলে আমাদের গাড়ির উপর শঙ্খচিল স্টিকার লাগিয়ে তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা সকল বাস মালিকরা মিলে আমাদের মালিক সমিতির সভাপতির মাধ্যমে সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
ঢাকা-বেতকা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হাসান মাসুদ শিকদার বলেন, সকাল থেকেই বাস মালিকরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সিরাজদিখান এলাকায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের পরিবহনের উপর জোরপূর্বক শঙ্খচিল লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে আমি খবর নিয়ে জানতে পারি, বিএনপি নেতা দেলোয়ার ও তার লোকজন মিলে আমাদের গাড়িগুলোর উপর স্টিকার লাগিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরে আমি সকল মালিকদের সাথে আলোচনা করে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য দেলোয়ার ভূইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মুন্সীগঞ্জ জেল বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন বলেন, এই ধরনের অপকর্ম আমার দল ও আমি কখনোই বরদাস্ত করবো না। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ডকুমেন্ট আমার কাছে পাঠালে আমি দলকে জানিয়ে তাকে ২৪ ঘন্টার শোকজ লেটার দিব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।