নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকা সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসব হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ অষ্টমী স্নান উৎসব কমিটি এ স্নান উৎসবের আয়োজন করে। শুক্লা তিথি অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা ২১ মিনিট ০১ সেকেন্ডে লগ্ন শুরু হয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে এ স্নানের সময়কালে এ তিথিতে স্নান করে এক মনে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা প্রার্থনা করলে ঈশ্বর সব পাপ ক্ষমা করে দেয় এবং সে ঈশ্বরের অপার কৃপা লাভ করে এ বিশ্বাসে শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ স্নান করতে আসে ধলেশ্বরী নদীতে।
কথিত আছে যে, ব্রহ্মপুত্রের জল পাপমুক্ত করেছিল পরশুরাম মুনিকে। আর মহাভারতের বর্ণনা মতে, পরশুরাম মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের যে স্থানে স্নান করেছিলেন তা লাঙ্গলবন্দে অবস্থিত। আর এ বিশ্বাস নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা লাঙ্গলবন্দসহ ধলেশ্বরী নদীতে স্নান করে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন করে। পরশুরাম মুনির পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা স্মরণ করে শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলে অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এ স্নান উপলক্ষে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে হরেক রকমের পসরা নিয়ে বসেছে মেলা। মেলায় সাংসারিক প্রয়োজনের যাবতীয় দ্রব্যাদিসহ ছোট ছেলেমেয়েদের খেলনা সামগ্রীর সমাহার ছিল লক্ষ্যণীয়। তাছাড়া এ মেলাতে খাবারের দোকানগুলোতে রয়েছে পিঠি, নিমকি, লাড্ডুসহ হরেক রকম মুখরোচক খাবার।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, এ স্নান উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রস্তুতি ছিলো।
অষ্টমী স্নান উৎসব আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম বনিক জানান, আদিকাল থেকে লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমী স্নানের মতো ধলেশ্বরীর পাড়ে পুণ্য স্নানের রীতি চলে আসছে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্তরা অষ্টমী স্নানে আসেন। পূজা অর্চনার মাধ্যমে ভক্তরা স্নান করে থাকেন। স্নান শেষে ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ধলেশ্বরীর তীরে স্নান উৎসব
আগের পোস্ট