নিজস্ব প্রতিবেদক
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। এরপর সময় যত গড়িয়েছে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের সেতুর নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (১০ই মার্চ) সকাল ৯টা ৫মিনিটে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ২৬ তম স্প্যান ‘৫-ডি’ বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ২৫তম স্প্যান বসানোর ১৮ দিনের মাথায় সেতুর ২৮ ও ২৯নং পিলারের উপর ২৬তম স্প্যানটি বসানো হলো। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৩ হাজার ৯০০ মিটার অংশ। পদ্মা সেতুর উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেনে স্প্যানটি রওনা করে। বেলা ৯টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৮ ও ২৯ নং পিলারের কাছে এসে পৌঁছে ক্রেন নোঙর করে রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় স্প্যান বসানোর কার্যক্রম। ক্রেন তিয়ান-ই এর মাধ্যমে স্প্যানটি পিলারের উপরে বসানো হয়। পূর্বপ্রস্তুতি ও প্রকৌশলীদের চেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্প্যানটি বসানোর কাজ শেষ হয়।
এদিকে ইতোমধ্যে মাওয়া প্রান্তে দুইটি স্প্যান এসে যোগ হয়েছে, বর্তমানে ৩৯টি স্প্যান রয়েছে। সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৪০টি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে বাকি ২টি পিলারের কাজ শেষ হবে বলে প্রকৌশলী সূত্র জানায়।
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ২৬টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ম‚ল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।
২৬তম স্প্যানে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ৩ হাজার ৯শ মিটার
আগের পোস্ট