নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন মাত্র এক বছর আগে। দায়িত্ব নিয়েই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে বদলে দেয়ার পণ করেন ডা. নাজমুস সালেহীন। দৈনিক মুন্সীগঞ্জের কাগজ এর লৌহজং প্রতিনিধিকে তিনি জানান, সেবা ও পরিবেশে পিছিয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়াটা অনেক কঠিন ছিলো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সহকর্মীদের সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র ১ বছরেই হাসপাতালটির অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আমরা সেবা দিতে এ পেশায় এসেছি।
এছাড়াও তিনি জানান, শুরুতেই হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত করার টার্গেট নেয়া হয়। সঙ্গে জোর দেয়া হয় সেবার মানে উন্নতি আনার। এখন হাসপাতাল আঙিনা ঝকঝকে-পরিষ্কার। দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়। চতুর্থ শ্রেণির পরিচ্ছন্নতাকর্মী পোস্টে কিছু আপদকালীন নিয়োগ দিয়ে কাজে গতি আনা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কক্ষ সংস্কার করা হয়েছে। এতে রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এখন প্রতিদিন আল্ট্রাসনোগ্রাফী হচ্ছে। তার যোগদানের পর হাসপাতালে ডাক্তার ছিল মোট ৫ জন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অনেকগুলো শূন্যপদ পূরণ করেন যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ১৯ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট বা বিশেষায়িত পদে ৫ জন কর্মরত। মেডিসিন, হৃদরোগ, শিশুরোগ, গাইনী রোগের চিকিৎসক এখন প্রতিদিন বসেন।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা হয়েছে। ওটি চালুকে বাস্তবে রূপ দেয়াটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। লোকবলের অপ্রতুলতা, যন্ত্রের সীমাবদ্ধতার সকল বাধা কাটিয়ে শুরু করা হয়েছে ওটি কমপ্লেক্স।
সার্জারী বিভাগের বিভিন্ন অপারেশন নিয়মিত চলমান থাকলেও প্রথমবারের মতো গাইনী (সিজারিয়ান সেকশন) বিভাগের অপারেশন চালু হয় ডা. নাজমুস সালেহীনের যোগদানের পর থেকে। বিভিন্ন অপারেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস) ডা. তাহমিনা আক্তার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থিসিয়া) ডা. মো. সাইফুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়ার অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা ও দিক-নির্দেশনায় এই পুরো কার্যক্রমটি আরও বেগবান হয়েছে। সার্বিক দিক-নির্দেশনায় নেপথ্যে ছিলেন সুযোগ্য সিভিল সার্জন ডা. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। সার্বক্ষণিক ছায়ার মতো থেকে সহযোগিতা করেছেন অত্র হাসপাতালের সকল জুনিয়র কনসালটেন্টবৃন্দ। হাসপাতালের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে টিম লৌহজংয়ের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন। সবার তিলতিল পরিশ্রমে ওটি কমপ্লেক্সসহ সকল কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।