নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছিল কাঁচামরিচের। যেভাবে দাম বেড়েছে সেভাবেই আবার কমেছে। শ্রীনগরের বাজারগুলোতে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম নেমেছে অর্ধেকের নিচে। এতে বিভিন্ন বাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিচের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। সেইসঙ্গে ডিম ও মুরগির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি মাছের দামেও তেমন পরিবর্তন আসেনি।
গতকাল শনিবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ ১৫ টাকা বিক্রি করছেন। আর এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি করছেন ৪০-৫০ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগে এই কাঁচামরিচের পোয়া ছিল ২৫-৩০ টাকা। আর কেজি ছিল ১০০-১১০ টাকা। তার আগে কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা উঠেছিল।
কাঁচামরিচের এমন দাম কমার কারণ হিসেবে শ্রীনগর বাজারের ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়। এ কারণে মাঝে কাঁচামরিচের কেজি দুইশ টাকায় উঠে যায়। এখন কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দফায় দফায় বাড়ে ডিমের দাম। যার ডজন ওঠে ১৬০ টাকায়। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো এতো বেশি দামে ডিম বিক্রি হয়নি। এরপর গত সপ্তাহে ডিমের দাম কমে ডজনে ১২০ টাকায় নেমে এসেছে। বর্তমানে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দামে পরিবর্তন আসেনি। ডিমের পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির দাম। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৮০ টাকায়। এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর মুরগির কেজি ২০০ টাকায় উঠেছিল। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে পাকিস্তানী কক বা সোনালী মুরগির দাম। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সোনালী মুরগির কেজি ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। এদিকে বাজারে নতুন সবজি হিসেবে শিম ও ফুলকপি আসলেও তা ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে না। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এই দুই সবজি। পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া। ফলে সবজি কিনতে এসে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা।
আগের মতো বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। এই সবজিটি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পাকা টমেটো, গাজর ও বরবটির। এক কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৩০ টাকায়। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। এই সবজিগুলোর পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য সবজির। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি ৫০-৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২০-২৫ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা।
সবজির দামের বিষয়ে শ্রীনগর বাজার ব্যবসায়ী মাসুদ দৈনিক মুন্সীগঞ্জের কাগজকে জানান, সবজির দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। তবে কিছুদিনের মধ্যে কমতে পারে দাম। কারণ এরইমধ্যে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও আলুর। পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতো ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকায়। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৬০ টাকা। ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কৈ মাছের কেজি। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামে পরিবর্তন আসেনি। মাছের মধ্যে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি ও ইলিশ। চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৯০০-১০০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা।