নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাটভোগদিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ২১ জন ডাক্তার থাকলেও অনেকেই নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। অনেকে রোগী প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ফিরে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মচারী না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রোগী থাকলেও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত লোকবল, যন্ত্রপাতি নেই বললেই চলে। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অধিকাংশ পদই শুন্য। হাতেগোনা নামমাত্র দুই-একটি পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোন পরীক্ষা হয় না এখানে। স্বাস্থ্যসেবা পেতে উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে যেনো দূর্ভোগের শেষ নেই উপজেলাবাসীর। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। এদিকে টানা ছয়দিন যাবৎ চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের সামনে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি। এতে আরও দূর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালে লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নে ছোট একটি অস্থায়ী ভবনে এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় হাসপাতালটি ৩১ শয্যার ছিলো। ২০০৫ সালে বেজগাঁও ইউনিয়নের হাটভোগদিয়া এলাকায় ৪ তলা ভবনে ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়। হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে দৈনিক ৩শ থেকে ৪শ রোগী সেবা নিতে আসেন। গরমের মৌসুমে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ে। আরও জানা যায়, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসক থাকার কথা ২১ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ কাগজে কলমে আছেন মাত্র অল্প কয়েকজন চিকিৎসক। হাড়, চর্ম, যৌন, অ্যানেসথেসিয়া, অর্থোপেডিক্স, ডেন্টাল, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, শিশুবিভাগসহ বেশকিছু বিভাগে কোন চিকিৎসক থাকলেও অনেকেই অনুপস্থিত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে জরুরি বিভাগের পাশে সব বয়সের শিশু, নারী, পুরুষসহ বৃদ্ধ রোগীদের ভিড়। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায়। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, এখানে চক্ষু, হাড়, চর্ম-যৌন, অ্যানেসথেসিয়া, অর্থোপেডিক্স, ডেন্টাল, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। হাসপাতালে শুধু রক্ত ও মলমূত্র পরীক্ষা করা যায়। অন্য সব পরীক্ষাগুলো বাহিরের ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে করতে হচ্ছে। তাই ভালো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না তারা। ডাক্তার স্বল্পতার কারণে লাইনে থেকেও ভালো করে ডাক্তার দেখানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাক্তারের কক্ষে যেতে পারলেও একসাথে ৩-৪ জন রোগীকে ২-৪ মিনিটের মধ্যেই কোনরকম দেখে ঔষধ লিখে দিচ্ছেন। প্রায় অনেক ঔষধও হাসপাতালে পাওয়া যায় না। শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কোন ওয়ার্ড নেই। নারী, পুরুষ ওয়ার্ড দুইটি প্রায় রোগীশুণ্য। পুরুষ ওয়ার্ডে ৯-১০ জন ও নারী ওয়ার্ডে ৫-৬ জন রোগী আছেন।
স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, হাসপাতালে রোগীদের তেমন চিকিৎসা দেওয়া হয় না। রোগের ধরণ অনুসারে চিকিৎসক নেই। তাই এখানে তেমন কোন সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নাজমুস সালেহীন বলেন, আমাদের এ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক আছে। অনেকের ছুটি চলছে। কিছু আছে অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত। সম্পূর্ণ উপজেলায় চিকিৎসা সেবা চলমান রাখতে হাসপাতালে কমপক্ষে ২১ জন চিকিৎসক আছে তবে বসার জায়গার প্রয়োজন। যন্ত্রপাতির অভাবে অপারেশনের কক্ষটি চালু করা যায়নি এখনো। হাসপাতালটির এক্সরে মেশিনও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় রোগীর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। ভালো চিকিৎসার আশায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটছেন তারা। তিনি আরও জানান, রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে যারা আছেন তারা দ্রুত কর্মক্ষেত্রে যোগ দিবেন।