নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মুক্তার হোসেন একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির নামে বায়না করার কারণে অনেকেই তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম্য সালিশে এ বিষয়ে মুক্তার হোসেনকে খুকুমনির বায়নার টাকার বিপরীতে জমি ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। বায়নার টাকার বাইরে মুক্তার খুকুমনির কাছে ধার হিসেবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু মুক্তারের কাছে সেই ধারের টাকা চাইতে গিয়ে হুমকি ধামকির মধ্যে পড়েছেন খুকুমনি। পরিশেষে নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে একই গ্রামের খুকুমনি মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে খুকুমনির বিপত্তি আরো বেড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর্জির সূত্রে জানা যায়, পূর্বপাড়ার মাদবর বাড়ির মৃত আলাউদ্দিনের পুত্র হচ্ছেন মুক্তার হোসেন। মুক্তার হোসেন প্রথমে রেখা বেগমের কাছ থেকে আম মোক্তারনামা দলিল বলে নালিশী জমির মালিক হন বলে জানা যায়। আর সেই জমিই খুকুমনি স্থানীয় মেম্বার জাহিদসহ একাধিক ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে মুক্তারের কাছ থেকে ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি ক্রয় করেন বলে শোনা যাচ্ছে। আর এই জমির সাব কবলা দলিল নং হচ্ছে ২১০১। সেই জমিতে বর্তমানে খুকুমনি ভোগ দখলসহ বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। এর কিছুদিন পরে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয় যে, মুক্তারের আগে এ জমি রেখা বেগমের কাছ থেকে এড. নজরুল ইসলাম উজ্জ্বল আম মোক্তারনামা দলিল মূলে মালিক হয়েছেন। আর সেই জমি পরবর্তীতে উজ্জ্বল মুন্সীগঞ্জ ল’ কলেজের পক্ষে অধ্যক্ষ এড. নুরুল ইসলাম বরাবর এ জমিটি বায়না করেন বলে আর্জি সূত্রে জানা যায়। এই সময়ে দুই দফায় জমি বিক্রিতে দুইবারেই মুক্তার হোসেন সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য গোপন রেখে মুক্তার হোসেন আগের বিক্রি হওয়া ঐ জমিই আবারো খুকুমনির কাছে জমি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে খুকুমনি জমি কেনার সময় সাক্ষীদের কাছে ছুটে যান। তারপরে সাক্ষীদের কাছে এই জমিটি পূর্বেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে মুক্তার সালিশী বৈঠকে স্বীকার করে বলে জানা গেছে। এরপর বিষয়টি মীমাংসা করার লক্ষ্যে মুক্তার খুকুমনির কাছ থেকে ধার হিসেবে ৫ লাখ টাকা নেন। আর পূর্বের ক্রয়কৃত জমির দলিল নং ২৯৯১টি ১৫ জুলাই বাতিল করা হয় বলে সূত্রমতে জানা গেছে। এখন খুকুমনি মুক্তারের কাছে ধারকৃত টাকাটি চাইতে গেলে তিনি তাল বাহানা শুরু করে। মুক্তারের বিষয়টি তার সন্দেহ হলে এরপরে খুকুমনি সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আবারো তল্লাশী চালালে এ জমির অনুকূলে আরো একটি বায়না দলিল পেয়ে যান। এই দলিলের নং হচ্ছে ৩৮৬৮। আর এর মালিক হচ্ছেন সাইদুজ্জামান। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে খুকুমনি আবারো ছুটে যান সালিশদের কাছে। তারা তখন তাকে পরামর্শ দেন আইনের আশ্রয় নিতে। তাই খুকুমনি থানার দ্বারস্থ হন।
মুক্তারের প্রতারণার শিকার খুকুমনি ; একই জমি একাধিবার বিক্রি!
আগের পোস্ট