ধর্ম ডেস্ক
দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া জিরি’র মুহতামিম আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব (৭৯) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
দেশের অন্যতম শীর্ষ এই আলেম রমজান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন। ইতেকাফ শেষে অসুস্থতা বোধ করলে তাঁকে রাতেই হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তিনি জায়নামাজে সেজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। হাসপাতালে জায়নামাজে সেজদারত অবস্থায় (২৪ মে) রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় ইন্তেকাল করেন এ বর্ষীয়ান আলেম।
তিনি দীর্ঘ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আল্লমা মুফতি নুরুল হক রহ.এর ইন্তেকালের পর থেকে প্রায় ৩৬ বছর ধরে মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, পাঁচ মেয়ে, নাতি-নাতনি, অসংখ্য ছাত্র, শাগরিদ, মুরিদান, ভক্ত গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
চট্টগ্রামের নিজ কর্মস্থল জিরি মাদরাসার মাঠে হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ইমামতিতে জামেয়া জিরির মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে ইসলামি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অনেক শীর্ষস্থানীয় ইসলামি সংগঠন।
বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন, পীরে কামেল আল্লামা শাহ তৈয়ব-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির, জামিয়ায় দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, কওমি অঙ্গনের শীর্ষ মুরুব্বী, দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, উম্মহর দরদী ঈমানি রাহবার, ইসলামি ব্যক্তিত্ব আল্লামা তৈয়ব রহ. দ্বীনি অঙ্গনে বহুমুখী গুণেরর অধিকারী ছিলেন। তার চিন্তা চেতনা ও প্রজ্ঞা অভিভূত হওয়ার মতো। তার হাস্যোজ্জ্বল মুখ ভুলতে পারবো না। তিনি ছিলেন জাতির কাছে একজন দ্বীনি অভিভাবক আলেমেদ্বীন। তার মৃত্যুরূপ মাধ্যমে অভিভাবকত্বের জায়গাটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবার নয়। মহান আল্লাহর দরবারে আমি তার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবার-পরিজন, ছাত্র-মুরিদান এবং সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শ্রতি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি। দোয়া করি আল্লাহ যেন সবাইকে সবর করার তৌফিক দেন।
সেজদারত অবস্থায় আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়বের ইন্তেকাল
আগের পোস্ট