নিজস্ব প্রতিবেদক
লঞ্চ দূর্ঘটনায় আমার ভাই আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে ফিরেছে। আমাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। তবে ভাইয়ের এই বেঁচে ফিরা নিয়ে অনেকে নানা সমালোচনা করছে। আমাদের পরিবারকে নিয়েও নানা বাজে মন্তব্য করছে। আমার ভাই সুমনের বেঁচে ফেরাটা কি তাহলে অন্যায় হয়েছে? বেঁচে ফেরাটা কি তার অপরাধ হয়েছে ? গতকাল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমনটাই জানাচ্ছিলেন বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় ১২ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধার হওয়া ফল ব্যবসায়ী সুমন বেপারীর ভাই শাহজাহান বেপারী। তিনি বলেন, গত সোমবার লঞ্চ ডুবার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর সুমনের লাশও পাইনি। আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এদিন আমাদের এলাকার আরো ৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছিলো। ভেবেছিলাম ভাইয়ের লাশটি কবর দেওয়ার সুযোগও হয়তো হবে না আমাদের। কিন্তু সব আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি বাঁচিয়েছেন। বিষয়টি অন্যভাবে দেখার কি আছে? আমাদের পরিবারকে অহেতুক বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবে যে যাই বলুক আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই। গত সোমবার সকালে শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ এর ধাক্কায় ডুবে যায় মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী লঞ্চ মর্নিংবার্ড। লঞ্চ ডুবির ১২ ঘন্টা পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয় লঞ্চযাত্রী ফল ব্যবসায়ী সুমন বেপারী। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, লঞ্চটি উল্টে গিয়ে লঞ্চের এয়ারপকেটে থাকা বাতাসে সুমন বেঁচে থাকতে অবশ্যই পারে। এমনকি এর আগেও বাল্কহেড ডুবির ৩০ ঘন্টা পর নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সুমনের ঘটনায়ও এমনটিই হয়েছে। আর সুমনের এই ফিরে বেঁচে ফেরার ঘটনায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে অনেকে। তবে কিছু কিছু সমালোচকই ঘটনাটি দেখছে ভিন্ন চোখে। আর এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ইন্টারনেট প্লাটফর্মে নানাভাবে বিদ্রুপ করছে সুমনসহ তার পরিবারকে। এদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিডফোর্ড হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হলে এদিন রাতেই তাকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাপুর বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে সুমন বেপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছনায় শুয়ে আছে সে। উৎসুক শত শত জনতা তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।
সুমন বেপারীর ভাতিজা সাকিব বলেন, ফেইসবুকে নানা মানুষ নানা কথা বলেছে, কষ্ট লাগছে। আমার চাচা মরে গেলে লাশের সংখ্যা আরেকটি বাড়তো, এতেই বুঝি অনেকে খুশি হতেন। চাচ্চু সহজসরল মানুষ, তাকে একটি ঘটনার বর্ণনা বারবার দিতে হচ্ছে। ঘটনা যেহেতু সত্য সবাই জানুক, এতে আমাদের সমস্যা নেই।
সুমনের মা আমেনা বেগম বলেন, ঘটনার দিন সকালে খবর পাইলাম লঞ্চ ডুইবা গেছে। সারাদিন কানলাম কাটলাম। মনে করছি আমার পোলা মইরাই গেছে। রাইতে খবর পাইলাম সুমনরে টিভিতে দেখাইতাছে। আমার পোলা আল্লাহ ফিরাই দিছে, সব আল্লাহর ইচ্ছা।
সুমনের বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বেপারী, মাদ্রাসা শিক্ষক জাহিদসহ ১ ডজন মানুষের সাথে। তারা জানায়, সুমনের পরিবার স্থানীয় খুবই পরিচিত। তার বড় ভাই আব্দুল হাই বেপারী আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে একাধারে ৪ বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সুমনও ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে।
সমালোচনার বিষয়ে সুমন বেপারী বলেন, আমি এসব জানি না। হাসাপাতালেও শত শত প্রশ্ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ভাইদের বারবার আমি সবকিছু বলেছি। যে যা বলুক আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আমার মা’কে আমার পরিবারের সবাইকে দেখতে পেয়েছি এতেই আলহামদুলিল্লাহ।
সুমনের বেঁচে ফেরাটা কি তাহলে অন্যায়?
আগের পোস্ট