নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর নতুন বাজার (মলঙ্গি বাজার) এলাকার সুদ ব্যবসায়ী ও রাঢ়ীখাল ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জিন্নাত বেপারীর অত্যাচারে বেশ কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জিন্নাত বেপারী নতুন বাজারে অবৈধভাবে ঋণ দেয়ার নামে আরাম ফাউন্ডেশন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। উপজেলার জগন্নাথ পট্টির নাদিয়া বেগম, নাগর নন্দির ফজল খান, নতুন বাজারের নার্গিস আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অনেকেই জিন্নাত বেপারীর কাছ থেকে অধিক মাত্রার সুদে ঋণ নিয়ে পরিবারগুলো এখন আত্মগোপন করে বেড়াচ্ছেন। সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে নতুন বাজারে আসা ব্যক্তিদের আটকিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে সুদ ব্যবসায়ী জিন্নাতের বিরুদ্ধে। জিন্নাতের ভয়ে অনেকেই ওই বাজারে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন বাজারের দোকানীরাও জিন্নাতের এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাননা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নতুন বাজার এলাকার আব্দুল রহিম বেপারী ওরফে খিদির বেপারীর ছেলে মো. জিন্নাত বেপারী স্থানীয় বাজারের বেপারী মার্কেটে ঋণ দেয়ার নামে একটি অফিস খুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে নেই কোনও সাইনবোর্ড। প্রায় ৮ বছর যাবত তিনি ছাড়পত্রবিহীন অবৈধভাবে ২০ থেকে ৩০ পারসেন্ট হার সুদে ঋণ দিচ্ছেন। আর এসব ঋণ গ্রহীতারা সুদে টাকা দিতে না পারলেই শুরু হয় জিন্নাতের অত্যাচার। প্রায় সময়ই কারও অটো আটক ও ভুক্তভোগীদের আটকিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। কিস্তি দিতে না পারায় অনেকেই জিন্নাতের ভয়ে পালিয়ে বেড়ান। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল মাস্টার। তিনি বলেন, আমি বহুবার নিজের জিম্মায় জিন্নাতের কাছ থেকে অনেক ভুক্তভোগীকে ছাড়িয়ে নিয়েছি। নতুন বাজারের একাধিক দোকানী বলেন, সুদের টাকা নিয়ে জিন্নাত বেপারীর এমন কর্মকান্ডে অনেকেই বাজারে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এতে করে ব্যবসায়িকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
ভুক্তভোগী নাদিয়া বলেন, আমি জিন্নাতের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে টাকা আনি। এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এখন রহস্যজনক কারণে জিন্নাত বেপারী ৫ লাখ টাকা দাবী করেন। এ নিয়ে বোনজামাই মজিবরের অটো আটক করে জিন্নাত বেপারী। ফজল খান বলেন, ঋণের টাকার জন্য তাকে বাজারে আটক করে জিন্নাত। পরে তার ভাই মো. জিন্নাত খান তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন তিনি।
মো. জিন্নাত বেপারীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আরাম ফাউন্ডেশন নামে তার প্রতিষ্ঠানের বৈধতা রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। সুদের টাকা আদায়ের জন্য একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও শারীরিক নির্যাতন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা সমবায় অফিসেও আরাম ফাউন্ডেশনের বিষয়ে কোন তথ্য নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, আরাম ফাউন্ডেশনের কোন বৈধতা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার এএসআই ইসলাম জানান, আমি অভিযোগ পেয়েছি। এখনও সরেজমিনে যেতে পারিনি।