নিজস্ব প্রতিবেদক
খাবারে মসলার ব্যবহার বহু প্রাচীন। খাবার সুস্বাদু করতে মসলার বিকল্প ভাবা যায় না। চলমান ঊর্ধ্বগতির নিত্যপণ্যের বাজারে থেমে নেই মসলার বাজার। চাল-তেলের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। কেজিতে দু-দশ টাকা স্বাভাবিক হলেও মসলাভেদে একলাফে বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সব মসলা উৎপাদিত হয় না। এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ ও জিরা আমদানি করেই মেটানো হয়। আবার আদা, রসুন ও হলুদ দেশে উৎপাদন হলেও চাহিদার তুলনায় কম। বর্তমানে মসলার বাজারে আগুন।
শ্রীনগরের বাজারগুলোতে মসলার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধি ও পণ্য আমদানিতে অনিয়মিত হওয়ায় মসলার বাজারে আগুন লেগেছে বলেই মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।
তবে, দেশীয় বাজারে আমদানীকৃত মসলা অস্বাভাবিক বেশি দামে বিক্রির ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তেল ও ডলারের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের আমদানি পণ্য শেষ হওয়ার আগেই কেন রাতারাতি দাম বেড়েছে তা জানেন না তারা।
গতকাল বুধবার শ্রীনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। শুকনো মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি দরে। দুই সপ্তাহ আগেও পণ্যটি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫০-৩৭০ টাকা দরে। ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১৫০-১৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অল্প ১০০ গ্রাম কিংবা আধা কেজির দাম হিসেবে ৫০০ টাকা কেজি ধরেই বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে শুকনো মসলার মধ্যে জিরা, দারুচিনি, গোলমরিচ, এলাচ, সরিষার দামও আকাশচুম্বী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিতে ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায়, দারুচিনি ২৯৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ২০ টাকা থেকে বেড়ে একলাফে ২ হাজার, গোলমরিচ ৫৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০০ টাকা, এলাচ ১ হাজার ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মজুদদার পর্যায় থেকে বাড়তি দাম নির্ধারণ করায় পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিনের ব্যবধানে রসুনের দাম ৬০-৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। আদার কেজি ৬০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।