নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামের অটোচলক বাবুল হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে বাড়ৈগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় আমার মেয়েকে ওই গ্রামের আহম্মদ হাওলাদারের ছেলে নাসির আহম্মেদ ওরফে সুজন গোপনে ও প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি আমার মেয়ে আমাকে জানালে আমি ও আমার স্বামী সুজন ও তার পরিবারকে অনেকবার সতর্ক করেও কোন ফল পাইনাই। এভাবে চলতে থাকায় বয়স কম বলে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সুজন সুকৌশলে আমার মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার কুবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে গোপনে ওর সঙ্গ দেওয়ার জন্য রাজি করিয়ে ফেলে। গত রবিবার ভোরবেলায় সুজন ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এমনটি দেখতে পেয়ে ওই এলাকার বোরহান নামের এক লোক আমাদের নিকট খবর দেয়। খবর পেয়ে আমি ও আমার স্বামী দৌড়ে রাস্তায় গেলে সুজন ও তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়। আমরা আমাদের মেয়েকে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপরে গত বুধবার বাড়ৈগাঁও স্কুলে বাড়ীর কাজের খাতা জমা দিতে গেলে সেখান থেকে সুজন তার বন্ধুদের সহযোগিতায় আমার মেয়েকে মটরসাইকেলে করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমার মেয়েকে না পেয়ে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যদেরকে জানাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য তপনের ভাই সুজন। তাই তপন বলে এ নিয়ে এতো বাড়াবাড়ির কিছু নেই। আমি থানায় অভিযোগ করতে চাইলে তারা আমাকে নিষেধ করে। পরবর্তীতে ওসি সাহেবের সহযোগিতায় লৌহজংয়ের এক জায়গা থেকে আমার মেয়েকে শারীরিক অসুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। আমার মেয়েকে পাওয়ার পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা আরও জানান, আমার মেয়েকে সুজন আগামী ১ বছর পরে বিবাহ করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। এ নিয়ে আমি থানায় মামলা করতে চাইলে ইউপি সদস্য তপন এলাকার বিল্লাহ ও লিটনসহ কয়েকজনকে দিয়ে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন এবং সালিশ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বেশ কিছুদিন ঘুরাচ্ছেন। এ বিষয়ে নাসির আহম্মেদ ওরফে সুজনের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, আমি ওকে ভালোবাসি। ওকে বিবাহ করব, কিন্তু কিছুসময় পর। কারণ আমার পরিবার ও মেম্বার ভাই তপন বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নিচ্ছেনা। এ বিষয়ে আটপাড়া ইউপি সদস্য তপনের মুঠোফোনে জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রহস্যজনক কারণে ফোন কলটি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা বলেন, আমার কাছে আসলে আমি আইনি সহযোগিতা করবো।
শ্রীনগরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা
আগের পোস্ট