নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়ন এলাকায় তীব্র পানি সংকটে নলকূপে মাসের পর মাস পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। পানির জন্য চলছে হাহাকার আর মাতম। মাঠ-ঘাট, বিল-ঝিল, জলাশয়, পুকুর-নদী কোথাও নেই পানি। পানি নেই নলকূপেও। বীরতারা ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে শতাধিক নলকূপে এ অবস্থা বিরাজ করছে। ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কোন নলকূপেই পানি উঠছে না। গত কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। কিছু কিছু জায়গাতে পানি মিললেও চলতি মাসের শুরুতে একেবারেই পানিশূন্য সব নলকূপ। পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো ক্রমেই পানিশূন্য। গরমের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সব নলকূপই এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এ অঞ্চলে গত ৬ মাসের বেশী সময় ধরে বৃষ্টিও নেই। ফলে ক্রমেই অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া কৃষকেরা জানায়, তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পানির। গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেক বাড়ির নলকূপ অকেঁজো। ফলে একদিকে রান্না-বান্নাসহ ঘর-গৃহস্থালীর কাজে যেমন অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে অন্যদিকে গরু-ছাগল বা গৃহপালিত পশু-পাখির জন্যও পাচ্ছেনা বিশুদ্ধ পানি। এমন অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আসিফ নেওয়াজ বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমন সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক জাকির লস্কর বলেন, শুধু গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতে নয় পানি নেই স্কুল-কলেজ, বিদ্যালয়ের নলকূপ, পানি নেই হাসপাতালের নলকূপেও। হাট-বাজার, মাঠ-ঘাটের সব জায়গাতেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। টিউবয়েল ব্যবসায়ী শাহানাজ জানান, তাদের ঘরের শ্রমিকরা গ্রামাঞ্চলে নলকূপ বসিয়ে থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ২৪ ফুট মাটির নিচে পানির লেয়ার বা স্তর পাওয়া যায়। কিন্তু এখন নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে ৩২ থেকে ৪০ ফুট নিচে পানির লেয়ার মিলছে। তবুও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না বলে এই ব্যবসায়ী জানান।