নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাড়ৈখালী দিঘীরপাড় ৮নং ওয়ার্ডে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ কয়েক শতাধিক মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তাসহ মালিকানা সংযোগ রাস্তা কেটে দেওয়া ও রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দের টাকা আসলেও প্রায় ২২টি পরিবারের থেকে নিজ জমির মাটি ছাড়াও মোটা অংকের টাকা নেওয়া, হামলা, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বাড়ৈখালী ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জাফর খন্দকারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।
শ্রীনগর থানা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাড়ৈখালী দিঘীরপাড়ের নাজির ইসলামের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত রবিবার দুপুরে ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের বাড়ৈখালী ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য খন্দকার আবু জাফর (৬৫), পূর্ব বাড়ৈখালী গ্রামের মৃত সৈজদ্দিন খন্দকারের পুত্র পিনু খন্দকার (৫৫), মৃত মাধুর পুত্র উজ্জ্বল (৩৮), মৃত মাওলা বক্স দেওয়ানের পুত্র সাগর দেওয়ান (৪৫), মৃত সুবল বাউলের পুত্র রমেশ বাউল (৪৮), শেখ জামালের পুত্র শেখ জাহিদ (২৮), মৃত শেখ সফিউদ্দিনের পুত্র শেখ সেলিম (৫৫), মৃত শ্রী রেবতী মল্লিকের পুত্র অমল মল্লিক (৫৫), সুবল মন্ডলের পুত্র বিমল মন্ডল (৫০), গোবিন্দ বাউলের পুত্র তরুন বাউল (৩৫), মৃত কালাচাঁন সরকারের পুত্র হারাধন সরকার (৫৫),
রশরাজ মন্ডলের পুত্র সনু মন্ডল (৪৫), নিতাই মল্লিকের পুত্র কালু মল্লিক (৫৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আনুমানিক ৪ মাস পূর্বে পূর্ব বাড়ৈখালী দিঘীরপাড় গ্রামে একটি সরকারি মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। উক্ত রাস্তাটি তৈরি করার সময় আমাদের এলাকার অগনিত বাসিন্দাদের মালিকানাধীন জায়গা-জমি থেকে ১-৪ লাখ টাকা মূল্যের মাটি এবং নগদ টাকা প্রদান করেন। তখন আমাদের ওয়ার্ড মেম্বার ১নং বিবাদী খন্দকার আবু জাফর আমাদের এলাকাবাসীদের জানায় যে, আমরা যদি উক্ত রাস্তা তৈরিতে মাটি এবং নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করি তাহলে রাস্তাটি সম্পূর্ণ নির্মাণের পর উক্ত রাস্তা থেকে প্রত্যেকের বাড়ি বরাবর শাখা রাস্তা তৈরি করে দিবে। যারা দিঘীর পূর্ব পাড়ে বসবাস করে তাদের কারও বিকল্প কোনো রাস্তা নাই। এটাই আমাদের একমাত্র রাস্তা হওয়ার কারণে আমরা এলাকাবাসী আমাদের সাধ্যমতো উক্ত রাস্তা নির্মাণের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেন। কিন্তু মূল রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ১নং বিবাদী আমাদেরকে আর সংযোগ রাস্তা তৈরি করে দেননি। তাই আমরা মূল রাস্তায় বের হওয়ার জন্য নিজ নিজ উদ্যোগে শাখা রাস্তা তৈরি করে চলাচল করে আসছি। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রাস্তা পরিদর্শন করতে আসেন এবং জানান, তিনি রাস্তা করে দিয়েছেন। এখন উক্ত রাস্তাতে তাদের ইটের সলিং করে নিতে বলেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বর্ষার পানি চলে আসলে খন্দকার আবু জাফর এবং পিনু খন্দকারের নেতৃত্বে উপরোক্ত বিবাদীরাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জন বিবাদী তাদের ৭/৮টা নৌকা চলাচলের জন্য মূল রাস্তাসহ শাখা রাস্তাগুলো কেটে ফেলে ক্ষতিসাধন করে। উক্ত রাস্তা কাটার কাজে বাধা দিলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র (দা, কোদাল, টেঁটা) নিয়ে বাদীসহ এলাকার আরো লোকজনকে মারতে আসে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়াও বিবাদীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোন সাক্ষী দিলে কিংবা যারাই সাক্ষী দিবে তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় বাড়ৈখালী বাজারস্থ বটতলায় বিবাদীরা বাদীকে পেয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উক্ত রাস্তার বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাদীকে ও বাদীর পরিবারের লোকদেরকেসহ বাদীর সাথে যারাই প্রতিবাদ করবে তাদেরকে খুন জখম করাসহ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বিবাদীরা কেহই রাস্তার দুই পাশের সাথে বাসিন্দা নয় এবং তাদের প্রত্যেকের বাড়ি থেকে চলাচলের জন্য রাস্তার সুব্যবস্থা রয়েছে। বিবাদীদের দেওয়া হুমকিতে বাদী এবং এলাকার লোকজন প্রাণনাশের আশঙ্কায় আছে। এ ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে এবং তাদের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয় বলে জানা যায়।
বাউল বাড়ি থেকে চকের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি আগে হালট ছিলো। ২০২৪ সালে পুনঃনির্মাণ হয়।
এ ব্যাপারে রাস্তার প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জাফর খন্দকার বলেন, অনুমতি না থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের হুকুমে জনস্বার্থে এ রাস্তাটি কেটেছে। রাস্তার জন্য সে কোন টাকা নেয়নি। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে যে সাজা হয় তা মাথা পেতে নিবে।
কাবিখা/কাবিটার কাজ ভেঁকু দিয়ে করার অনুমতি আছে কি না ও বরাদ্দ কত টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন বর্তমান বেশিরভাগ রাস্তা হচ্ছে ভেঁকু দিয়ে। তাই ভেঁকু দিয়ে করা হয়েছে। লেবার দিয়ে কাটলে আড়াই লক্ষ টাকায় রাস্তার ৪ আনিও হতো না। উপজেলার পিআইও স্যার রাস্তা দেখে খুশি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, রাস্তাটি কাবিখা প্রকল্পের। বাজেটে হয় না, এজন্য ভেঁকু দিয়ে রাস্তাটি করেছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। তিনি রাস্তা কেটে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।