নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টার খুলে পড়াতে নিষেধ করায় প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দেওয়ানকে মারধর করার অভিযোগ উঠে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অধীর চন্দ্র দত্ত, মোঃ মুরাদ হোসেন ও গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে। এসময় সহকারী এই তিন শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ভাংচুরসহ বিদ্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র বিনষ্ট করেন। শিক্ষকদের মারামারি ও ভাংচুরের শব্দে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে থাকে। শিশুদের চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশেপাশের লোকজন ও অভিভাবকরা দৌড়ে এসে প্রধান শিক্ষককে সহকারী শিক্ষকদের মারধর থেকে রক্ষা করে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক মৃদুল দেওয়ান তার স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার খুলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে নিষেধ করেন এবং সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষকদের স্কুলে হাজির থাকতে বলেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন সহকারী শিক্ষকরা। আজকে (গতকাল বুধবার) গোবিন্দ স্যার সকাল ৯টার পরে স্কুলে আসলে হেড স্যার তাকে প্রবেশ করতে নিষেধ করায় সহকারী শিক্ষকরা স্যারকে মারধর শুরু করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দেওয়ান জানান, আমি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কোচিং খুলে ছাত্রছাত্রীদের কোচিং করাতে নিষেধ করে আসছি। এ নিয়ে কয়েক দফা মিটিং করেও নিষেধ করেছি। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা আমার কথা অমান্য করে কোচিং চালিয়ে যায়। এতে তারা আমার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। এই নিয়ে সহকারী শিক্ষকরা আমার উপর হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে আহত করে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহেদা খাতুন বলেন, এই ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।