নিজস্ব প্রতিবেদক
একসময়ে শ্রীনগরের গ্রামীণ মেঠোপথে হাঁটলে রাস্তার ধারে গাছের উঁচু ডালে, পাকা ঘরের দেয়ালে হরহামেশাই চোখে পড়তো মৌমাছির বাসস্থান মৌচাক। কিন্তু দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক মৌচাক। মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে ভোঁ ভোঁ করে আনাগোনা করতো। কিন্তু বড় বড় গাছ কেটে ফেলা, জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মৌমাছির সেই অবাধ বিচরণ, মধু সংগ্রহকারীদের মধু সংগ্রহের দৃশ্য তেমন একটা দেখা যায় না। শোনা যায়না মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ।
সামাজিক প্রাণি মৌমাছিরা মৌচাকে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। একটি মৌচাকে তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে। রানী, পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি। রানী মৌমাছি বড় আর পুরুষ মৌমাছি মাঝারি এবং শ্রমিক মৌমাছি ছোট আকৃতির হয়।
একটা সময় অনেকেই মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে চালিয়েছিলেন জীবন জীবিকা। তবে আগের মত মৌচাক না থাকায় সেই পেশা ত্যাগ করে জীবিকার তাগিদে অনেকে বেছে নিচ্ছেন অন্য পেশা। মধু সংগ্রহের সেসব দৃশ্য যেন এখন শুধুই স্মৃতি। আধুনিক যুগে মানুষ গাছপালা, বন-জঙ্গল কেটে ধ্বংস করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রকৃতিকে করছে কোনঠাসা। কোনপ্রকার নিয়ম না মেনেই তৈরি হচ্ছে অবকাঠামো। আর সেসব কারণে প্রাকৃতিকভাবে এসে চাক তৈরী করা সামাজিক প্রাণি মৌমাছির জীবন রক্ষা করাই যেন সংকটাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে মৌমাছির বাসস্থান মৌচাক।
শ্রীনগর উপজেলার উত্তর পাইকসা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আজাহার বলেন, আমার নিজ বাড়ির আমগাছ থেকে চাকের মধু পেড়ে খেয়েছিলাম গত পঞ্চাশ বছর পূর্বে। সেই মধু খাওয়ার স্বাদ মুখে এখনও লেগে আছে। এখন সেই মধু পাওয়া যায় না।