নিজস্ব প্রতিবেদক
একদিকে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে অতিরিক্ত গরম অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের অধিকাংশ খামারে প্রায় প্রতিদিন হিটস্ট্রোকে শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় লেয়ার মুরগির খামারে ডিমের উৎপাদনও কমেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। মুরগির প্রাথমিক চিকিৎসা ও খামারে পানি ছিটানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাজ হচ্ছে না। অতিরিক্ত গরমে মুরগির হিটস্ট্রোক হচ্ছে। খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোন কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে না।
সম্প্রতি এসব খামারে মুরগির মড়ক দেখা দিয়েছে। খামারিরা জানিয়েছেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসেও নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে আবহাওয়া খুবই উত্তপ্ত হয়ে গেছে। আবার নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা চালানো যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন মুরগি মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় তারা প্রতিদিনই লোকসানের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা গ্রামের শাজাহান চার বছর যাবৎ লেয়ার মুরগির খামার করে আসছেন। বর্তমানে তার খামারে এক হাজার মুরগি রয়েছে। গত বছর থেকে খাবারের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির কারণে অনেকটা চাপের মধ্যে আছেন তিনি। সম্প্রতি অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে গরমের কারণে প্রতিদিন তার খামারে ১০ থেকে ১৫টি মুরগি মারা যাচ্ছে। কোনো উপায় না পেয়ে দিশেহারা এই খামারী।
শাজাহান বলেন, গরমের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগি মারা যাওয়ার পাশাপাশি ডিম উৎপাদনও অনেক কমে গেছে।
একই এলাকার খামারী সজিব বলেন, আগে যে দামে সয়াবিন কিনতাম এখন দাম দ্বিগুণ হয়েছে। প্রোটিন এবং ভুট্টার দামও বেড়েছে। মেডিসিনের দাম বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। কিন্তু মুরগির দাম খুব একটা বাড়েনি। এক কেজি ওজনের মুরগি করতে খরচ হয় ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। আমাদের বিক্রিও করতে হয় একই দামে। এখন তো গরমে স্ট্রোক করে প্রতিদিন মুরগি মারা যাচ্ছে।
শ্রীনগরে অতিরিক্ত লোডশেডিং ; হিটস্ট্রোকে মরছে মুরগি, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি
আগের পোস্ট