নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় পদ্মা নদীতে লৌহজং-তেউটিয়া, বেজগাঁও, গাঁওদিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ চেষ্টা করছে যা অনেকটা দৃশ্যমান।
জানা যায়, হঠাৎ করে রাক্ষুসী পদ্মা নদীর থাবায় একরাতে ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। বেজগাঁও, গাঁওদিয়া, লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের নদীর পাড়ের মানুষের আতঙ্ক কাটছে দিন ও রাত। গত ১ অক্টোবর শনিবার রাতে লৌহজং-তেউটিয়ার ১নং ওয়ার্ডের বড় নওপাড়ায় ভাঙনের শিকার ১৫টি বাড়ির বসত ভিটামাটি। তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে না পেরে কেঁদেছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির তৎপরতা এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় দ্রুত গতিতে জিও ব্যাগের ব্লক ফেলার কাজ চলছে।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লৌহজং-তেউটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৫-২০ জন মিলে প্রায় ছয়শত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিদর্শন করছেন। তবে নতুন করে ভাঙনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পদ্মা পাড়ে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দৃশ্যমান। নদীর মূল স্রোত অনেকটা দূরে। এলাকাবাসী বলেন, বতর্মানে ভাঙন নেই। তবে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আছে।
বেজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য মো. আবু তাহের মৃধা এবং লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, গত দু’দিন যে ক্ষতি হয়েছে বতর্মানে জিও ব্যাগ ফেলেছে বলে কিছুটা ভাঙন প্রতিরোধ হয়েছে। তবে বৃষ্টি থাকায় শ্রমিকদের কাজের সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করি, আরো দু’দিন কাজ করলে ভাঙন রোধে ব্লক তৈরি হয়ে যাবে।
লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমি ও স্থানীয় প্রশাসন ভাঙন রোধে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে জিও ব্যাগ ফেলছে। গত চারদিন যাবত এলাকার জনগণের পাশে থেকে কাজ করছি। গত শনিবার ভাঙন ধরে এলাকায়। তবে এ পর্যন্ত নতুন করে ভাঙনের কোন খবর পাইনি। জিও ফেলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, এ ভাঙন প্রাকৃতিক নয়। এটি কৃত্রিম সংকট। প্রতিদিন পানি কমছে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ভাঙন রোধে এবং সাধ্যমত চেষ্টা করছি জিও ব্যাগ ফেলে ব্লক তৈরি করে ভাঙন থেকে এলাকার মানুষের ভিটামাটি রক্ষা করতে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, লৌহজং-তেউটিয়ায় নদী ভাঙনের খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন শেষে আমাদের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় অতি দ্রুত গতিতে নদীতে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। জিও ব্যাগ দিয়ে ব্লক তৈরি করা হবে ভাঙন রোধে।
এসময় তিনি আরো বলেন, বর্ষা শেষ। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত, অতি বৃষ্টি ও ঢেউয়ের তোড়ে কিছু ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।