নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরকাদিম পৌরসভাধীন রিকাবীবাজার, নুরপুর পুরান বাড়ীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মিজানুর রহমান (৭৫) করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন, মিরকাদিম পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি ও নুরপুর মসজিদ ও পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, নুরপুর পচু বেপারী ওয়াকফা স্টেটের মুতয়াল্লি হাজী আব্দুল জব্বার এক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। রিকাবীবাজার কমলাঘাট বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম ফজল করিম মাতব্বর সাহেবের বড় সন্তান মিজানুর রহমান মুন্সীগঞ্জ শহরের স্কুলে- কলেজে লেখাপড়া করে বড় হয়েছেন। তার পিতা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য শহরের মালপাড়ায় বাড়ি করে দেন এবং ছেলেমেয়েরা সেখানেই বসবাস করতেন। বহুগুণের অধিকারী মিজানুর রহমান শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ছিলেন একজন স্বাস্থ্য সচেতন ব্যায়ামবিদ, নাট্যাভিনেতা। বঙ্গবন্ধুর চীফ সিকিউরিটি অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসাবে মোঃ মহিউদ্দিন এর ছোট ভাই তৎকালীন পৌরসভা চেয়ারম্যান মরহুম মোঃ খালেকুজ্জামান খোকা এর সাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী ছবিঘর সিনেমা হলের মালিকানার অংশীদার ছিলেন।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি নিজে এবং ছোট তিন ভাই মরহুম এ কে এম আলাউদ্দিন, মরহুম মোঃ সাহাবুদ্দিন, মোঃ গিয়াস উদ্দিন সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার ছোট বোন পিয়ারী বেগম তখনকার সময়ে একজন ভাল মানের সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন।
তিনি পরিবার সমেত মুন্সীগঞ্জ শহরে থাকলেও তার জম্মস্থান নুরপুর পুরানবাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন। নিজ এলাকার লোকজনের খোঁজখবর রাখতেন। নুরপুর মসজিদ ও পঞ্চায়েত কমিটি পরিচালনায় দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। একসময় তিনি নুরপুর মসজিদ ও পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তিনি রিকাবীবাজার গ্রিন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার ক্লাব এবং ভাস্কর সাহিত্য সংস্কৃতি গোষ্ঠীর সাথে জড়িত ছিলেন।
রিকাবীবাজারের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন
আগের পোস্ট