নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক নাশকতা মামলায় ১১ বছর বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিএনপির ১১৫ নেতাকর্মীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার দুপুর ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চত করেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইমরান হাওলাদার। রায়ের সময় আসামী শাহজাহান, মমিন আলী, দেলোয়ার হোসেন, মনছুর, আনিছ, মহিউদ্দিন, বিল্লাল, আবুল হোসেন, রমজান, দিন ইসলাম, মনির হোসেন, মালেক শেখ, সোহেল, আবু তাহের, সাইফুল ইসলাম টিটু, কামাল, আসরাফ উদ্দিন, ফারুক মোড়ল, দিদারুল ইসলাম টিটু, জয়নালসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মামলার চার্জশিটে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের পূর্বে অব্যাহতি দিলেও তদন্ত সাপেক্ষে মামলায় ১১৫ জনকে আসামী শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এলাকায় হরতাল চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিন আলীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অবস্থান নিতে থাকে। এসময় সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ কর্মকান্ডের লক্ষ্যে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে তিনটি ককটেল ও একটি পেট্রোল বোমা বিষ্ফোরণ করে। ওই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৯ রাউন্ড রাবার বুলেট বর্ষণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুলিশের এস আই মোস্তাফিজুর রহমান বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ৮০ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে শ্রীনগর থানার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী থাকায় আরো অন্যান্য আসামীদের মামলায় আটক করা হয়। চার্জশিটে কিছু সংখ্যক আসামীদের নাম বাদ দিলেও মামলার ১১৫ জন আসামীভুক্ত থাকেন। দীর্ঘ ১১ বছর মামলা চলাকালীন সময়ে ২১ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দীর ভিত্তিতে মামলার ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় সকল আসামীকে খালাস দেন বিচারক।
এ ব্যাপারে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইমরান হাওলাদার জানান, শ্রীনগরের এক নাশকতা মামলায় ১১৫ জন আসামীকে খালাস দিয়েছে আদালত। বেশিরভাগ আসামী আদালতে হাজির না থাকলেও আজ আদালতে অনেক আসামী উপস্থিত ছিলেন।