নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জে জমি-জমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। মামলার পর থেকে বাদীর পরিবারের লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীর ভাই শাহাবুদ্দিন এবং বাদী নাজিম উদ্দিন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌর এলাকার জোড়ার দেউল এলাকায় সি এস ৯৯ দাগের ৭০ শতাংশ সম্পত্তি মধ্যে ২৫.৭০ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে দুটি গ্যারেজ এবং কলোনী ঘর ৩টা, ১টা বড় ঘরসহ মোট ৪টি ঘর নির্মাণ করে ৩০ বছর পূর্বে। এই সম্পত্তিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে বসবাস করে আসছিলেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকায় গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে বাদী নাজিম উদ্দিন ও তার ভাই সাহাবুদ্দিনের দুটি গ্যারেজের মাঝখান দিয়ে দেয়াল দেয়ার চেষ্টা করে আওলাদ মোল্লা ও বিল্লাল মোল্লাসহ তার লোকজন। তাদের বাধা দিলে আওলাদ ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। হামলায় বাদী নাজিমুদ্দিনের সাথে হাতাহাতি হয়। তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসে তার ভাতিজা আল আমিন। এসময় তাকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এছাড়াও বাদীর ছোট ভাই রমজানকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ হামলায় বাদ যায়নি বাদীর ছোট ভাই রউফ। তাকেও বেদম প্রহার করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে রউফের স্ত্রী হোসনে আরাকে বেদম প্রহার করে। তাদের চিৎকারে সুমা নামে এক মহিলা এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। বাদীর আরেক ভাতিজা আব্দুল্লাহকে মারধর করে। এছাড়াও হোসেন ও সাহাবুদ্দিনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীরা বাদীদের দুটি গ্যারেজের দরজা, জানালা, খুঁটি, গ্যারেজে থাকা গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। হামলায় একই পরিবারের ৯ জন আহত হন। আহতরা হলেন- আলামিন, আলামিনের বোন সোমা, রমজান, আঃ রব ও তার স্ত্রী হোসনে আরা, হোসেন মোল্লা, আব্দুল্লাহ, নাজিম উদ্দিন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় এ ঘটনায় যদি কেউ মামলা মোকদ্দমা করে, তাহলে তাদের এলাকাছাড়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করে মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামী হন আওলাদ মোল্লা (৪০), বিল্লাল মোল্লা (৬০), ইলিয়াস মোল্লা (৪০), আসলাম (৩৫), আমজাদ মোল্লা (৩২), জাবেদ (২৪), সীমান্ত (২০), অনিক (২০), আকরাম (২৪), আক্তার (৩০), রাজ্জাক (২১), সামির (২০), শুভ (২০)। এই আসামীদের মধ্যে আওলাদ, আকরাম, অনিক, আক্তার, রাজ্জাক, সিয়াম, শাহআলম, সামির ও শুভ এই ৯ জন জামিনে রয়েছে। আসামীরা মামলা উঠানোর জন্য হুমকি দিলে তাদের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় জিডি করা হয়।
নাজিম উদ্দিন জানান, আমাকে ও আমার পরিবারকে ৭ বছর যাবৎ হয়রানি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আওলাদ গংরা। তারা উল্টো ভূমিদস্যু অপবাদ দিয়ে নাজিম উদ্দিনের নামে মামলা দেয় বিল্লাল হোসেন। এই মামলায় হয়রানি করছে নাজিম উদ্দিনকে।
সাংবাদিকদের নাজিম উদ্দিন জানান, বিল্লাল মোল্লার বাবা জব্বর মোল্লার নামে ভুলবশত আর এস এ রেকর্ড বেশি উঠাতে বিল্লাল মোল্লা নামজারি করে এনে ৭ বছর যাবৎ হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে নাজিম উদ্দিন ও তার স্বজনদের। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জজ কোর্টে আর এস সংশোধনের জন্য মুন্সীগঞ্জ ১নং কোর্টে দেওয়ানী মামলা হয়। যাহার মামলা নং- ৩৭৬/১৯। এদিকে তাদের ভয়ে দিশেহারা মামলার বাদী ও তার পরিবার। বাদীর পারিবার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। এ ঘটনায় জড়িত আওলাদ মোল্লা গংদের সাথে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।