নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে জেলার টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং এবং শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তীর গ্রামগুলো। ইতিমধ্যে গত ২ সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে ফসলি জমি ও বসত ভিটা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার তিনটি উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার। বছর জুড়ে পদ্মায় অবৈধ ড্রেজিং এবং পদ্মা তীরবর্তী ফসলি জমির মাটি বিক্রির ফলে নদীর বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন হয় নদীর গতিপথ। পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরী বেষ্টিত এই জেলার ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে শত শত খাল। তিনটি নদীতে সংযোগ হওয়া এই খালগুলো ছিলো জেলার লাইফলাইন। বছরের পর বছর খালগুলো দখলদারদের দখলে চলে যাওয়ায় অস্থিত্ব হারিয়ে ফেলে। খালগুলোতে আর আগের মত বর্ষার পানি প্রবাহিত হতে পারছেনা। বর্ষা এলেই বেড়ে যায় পানির তীব্রতা। ফলে পানির প্রবল চাপে ভাঙ্গন দেখা দেয় বিভিন্ন এলাকায়। বর্ষার শুরুতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বৃদ্ধি পায় পদ্মা নদীর পানি। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে প্রচন্ড ঘূর্ণীয়মান স্রোতের সঙ্গে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ায় বেড়ে গেছে নদী ভাঙনের তীব্রতা। নদী ভাঙ্গনে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলায় পদ্মায় ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়েছে দেড় শতাধিক বসত ঘর, মসজিদ, পাকা রাস্তা, মন্দির ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। অপরদিকে গত কয়েকদিন ধরে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্লাবিত হচ্ছে পদ্মা নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড়, কামারখাড়া, হাসাইল ও পাঁচগাঁও। লৌহজং উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী বেজগাঁও, গাঁওদিয়া, টেউটিয়া, কলমা কুমারভোগসহ শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী ভাগ্যকুল, রাঢ়ীখাল ও বাঘড়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। পানিবন্দী এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। লৌহজং উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেছেন, ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জের পানিবন্দী এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট
আগের পোস্ট