নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্যবিভাগে বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এতে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগের মাঠকর্মী থেকে শুরু চিকিৎসকদের। গতকাল রবিবার সর্বশেষ টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ডাক্তার ও একজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ জেলায় স্বাস্থ্যবিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৩ জন ডাক্তার, ৬ জন নার্স, ৩ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার রয়েছে। এদিকে আক্রান্ত ৩ জন সিএইচপি এর মধ্যে মারা গেছেন একজন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত কেউ সুস্থ হয়নি। এসব বিষয় মুন্সীগঞ্জের কাগজকে নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল সর্বপ্রথম জেলায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। প্রথম আক্রান্তদের মধ্যেই ছিলেন গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো)। এরপর একে একে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের হেড ক্লার্ক, স্টোর কিপার, অফিস সহকারী, নৈশ প্রহরী, ইপিআই সুপারসহ ৮ জন কর্মচারী, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ১ জন অ্যাম্বুলেন্স চালক, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের ২ জন চিকিৎসক, কমিউনিটি ক্লিনিকের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা, নার্স, সহকারী নার্স, কম্পাউন্ডার অপারেটর, পরিচ্ছন্ন কর্মী, প্রধান সহকারী, কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোভাইডার, উপ-সহকারী ডাক্তার, নার্স, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের ২ জন, টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জনসহ মোট ৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলায় ৬টি উপজেলায় ৮৮ জন ডাক্তার ও ১৫২ জন নার্স রয়েছে। এছাড়াও মাঠকর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছে। যারা করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই নিয়মিত কাজ করে চলেছেন। কর্মকর্তা ও কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি তারপরও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে। একজন মারা গেছে। তবে এখনো পুরোপুরি কেউই সুস্থ হয়নি। প্রথমদিকে আক্রান্ত গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) এর একটি নমুনা নেগেটিভ এসেছে। সে এখন বাড়িতে আইসোলেশনে আছে। আরেকটি নমুনা নেগেটিভ আসলে তাকে সুস্থ বলা যাবে। পরিস্থিতি যাই হোক স্বাস্থ্যবিভাগ কাজ করে যাবে।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্তদের বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাসলিমা ইসলাম জানান, কোন উপসর্গ ছাড়াই ২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে আক্রান্ত চিকিৎসক মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার তার বাসা হতে এসে ডিউটি করতো। আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে তার নিজ বাড়িতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে তার টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সের কোয়ার্টারে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এদিকে গতকাল সর্বশেষ ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা থেকে মোট ১৫৭০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলো। যাদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া গেছে ১১৬০ জনের। আরো বাকি রয়েছে ৪১০ জনের। আর জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৪৫ জন।