নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে শিকলে বন্দী অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাক নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের দোরাবতী গ্রামের মৃত দোয়া বক্স সরদারের ছোট ছেলে। এক যুগেরও বেশি লোকচক্ষুর অন্তরালে শিকলে বন্দী ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুর রাজ্জাক। মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে ভাত, পানি চেয়ে ডাকচিৎকার করলেও এগিয়ে আসেনি ওই পরিবারের কোন সদস্য অভিযোগ প্রতিবেশীদের।
জানা গেছে, উপজেলার দোরাবতী গ্রামের মৃত দোয়া বক্স সরদারের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩২)কে চিকিৎসা না করে এক যুগের বেশি শিকলে বন্দী করে বাড়ির উত্তর সীমানার একটি পরিত্যক্ত ঘরে রেখেছিল পরিবারের লোকেরা। বাড়িতে বসবাসকারী তার বড় ভাই আব্দুল বারেক রাজ্জাকের পৈতৃক ২০ লাখ টাকার অধিক মূল্যের সম্পদ ভোগ করলেও তাকে খাবার দিতো না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বিগত ৬ মাস পূর্বে রাজ্জাকের বৃদ্ধ মাতা বারেকের সাথে ঝগড়া করে তার পৈতৃক বাড়িতে চলে গেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় রাজ্জাকের সাড়া শব্দ না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা ওই বাড়ির উত্তর সীমানার ঘরে গিয়ে দেখে রাজ্জাক মৃত্যুবরণ করেছেন।
প্রতিবেশী সোনিয়া জানায়, প্রতিদিনের মতো রাজ্জাক ভাত দে, পানি দে বলে ভোরবেলা চিৎকার করেছে।
বারেক সরদার জানায়, রাজ্জাককে শিকলে আটকিয়ে একা ভিন্ন ঘরে রাখা হয়েছিলো। কখন তার মৃত্যু হয়েছে তা বলা সম্ভব নয়, তবে সকাল সাড়ে ৮টায় সে জেনেছে রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক হারুন খান জানান, আব্দুর রাজ্জাককে বাধ্য হয়ে শিকলবন্দি করা হয়। ওই যুবক প্রায় সময়ই মানুষকে মারধর করত, যাকে তাকে থুতু দিত, এমনকি সুযোগ পেলেই মানুষকে কামড়াতো, নিজের কাপড় নিজেই ছিঁড়ে একেবারে উলঙ্গ হয়ে যেত। পাড়া-প্রতিবেশী অনেকেই তার এমন বিপদজনক পাগলামির হেনস্থার শিকার হতো। এমতাবস্থায় ওই সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসকের মতে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিয়ে শিকল বন্দি করা হয়েছিলো।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এ এস আই সানু আক্তার জানান, থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টঙ্গীবাড়ীতে শিকল বন্দী অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু
আগের পোস্ট