# বুক ভরা আশা নিয়ে বাড়তি পরিচর্যা
# তারপরও শঙ্কায় কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবো তো!
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বুক ভরা আশা নিয়ে আলুর জমির বাড়তি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও আলুর ভালো ফলনের জন্য বিভিন্ন রকমের ঔষধ প্রয়োগ করছেন তারা। এ বছর আলু রোপণ মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে জমির মাটি শুকনো না থাকায় আলু চাষে বেশ বিলম্ব হয়। ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত নিচু জমিগুলোতে আলু রোপণ করে কৃষকেরা। বিলম্বে রোপণের ফলে উৎপাদন কম হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান কৃষকরা। এছাড়াও আরও শঙ্কা রয়েছে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে। কেননা, বিগত বছরগুলোতে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক আলু চাষীই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এদিকে গত বছর আলুর দাম বেশি থাকলেও ন্যায্যমূল্য পায়নি আলু চাষীরা। যদিও আলুর দাম পরে বেড়েছে কিন্তু এতে বরং লাভবান হয়েছে আড়ৎদার ব্যবসায়ীরাই। তাই এবার একটু লাভের আশায় উচ্চমূল্য দিয়েই কিনতে হয়েছে বীজ আলু। সব মিলিয়ে আলু চাষীরা রয়েছে মহা দুশ্চিন্তায়। তারপরেও যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, এর সাথে সাথে শীতও দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে উৎপাদন ঠিকমতো হতে পারে বলে জানান তারা। সরেজমিনে উপজেলার আউটশাহী, বলই, ভোরন্ডা, শিলিমপুর, বালিগাঁও, কাইচাইল প্রভৃতি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কিছু জমিতে পরিপূর্ণ গাছ উঠে জমি সবুজ আকার ধারণ করেছে। বেশিরভাগ জমিতে সবেমাত্র ছোট ছোট গাছ গজিয়েছে। উপজেলার বলই এলাকায় দেখা যায়, আলু জমিতে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে কৃষক লিটন বেপারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আলু রোপণে বিলম্ব হওয়ার কারণে গাছ একটু ছোট, পানি সেচ দেওয়ার পর ভিটামিন ঔষধ স্প্রে করলে গাছ দ্রুত বড় হবে এবং ফলনও ভালো হবে। রোগ-বালাই যাতে আক্রমণ করতে না পারে তার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পানি সেচ ও ঔষধ স্প্রে করা হয়। এসময় পাশের জমিগুলোতে বেশ কিছু মহিলা শ্রমিককে আগাছা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার এ সমস্ত শ্রমিকগুলো আলু পরিচর্যায় বেশ পারদর্শী। এছাড়া মহিলা শ্রমিকের পারিশ্রমিক কম হওয়ায় এদের দিয়ে জমি পরিচর্যায় আগ্রহী আলু চাষীরা। আলু চাষী মহিউদ্দিন ঢালী জানান, মহিলা শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি কম দেয় আবার তাদের পারিশ্রমিকও কম। তাই প্রায় আলু চাষীই তাদের দিয়ে জমির আগাছা পরিষ্কার করায়। ভোরন্ডা গ্রামের আলু চাষী দ্বীন ইসলাম শিকদার জানান, বৃষ্টির কারণে বেশ কিছুদিন বিলম্বে এবার আলু রোপণ করতে হয়েছে। সেই কারণে আলু গাছগুলো এখনো পুরোপুরি গজিয়ে উঠেনি। কিছু কিছু জায়গায় গাছ গজানো এখনো বাকী আছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর উপজেলার ৯ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক বিড়ম্বনার কারণে কিছুটা বিলম্বে এ বছর চাষাবাদ হয়েছে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে আশা করছি।
টঙ্গীবাড়ীতে আলু চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছ পরিচর্যায়
আগের পোস্ট