নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন খাবারের হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা প্রায় শতাধিক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির অবস্থান বহুতল আবাসিক ভবনে। এসবে রয়েছে আধুনিক খাবার বার্গার, কাচ্চি বিরিয়ানি, রাইস-কারি, গ্রিল-কাবাব, বাঙালির চিরায়ত খাবার ভাত, মাছ, মাংসসহ নানা পদ। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্থানীয়সহ ঘুরতে আসা মানুষজনের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।
সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা যায়, প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁয় গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০০-৫০০ মানুষের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কতটুকু? বিশেষ করে অর্ডার করার পরে যারা রান্না করে খাবার সরবরাহ করেন তাদের অবস্থা কি?
তথ্যসূত্র বলছে, উপজেলার প্রায় শতভাগ রেস্তোরাঁয় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় সিলিন্ডার গ্যাস। ঢাকার বেইলি রোডে গত বৃহস্পতিবার বহুতল ভবন গ্রিণ কোজি কটেজে অগ্নিকান্ডে ৪৬ জন মৃত্যুর পর নতুন করে মানুষের মধ্যে আলোচনা টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে তো?
সরেজমিনে গতকাল বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ৫টি রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, খাবার টেবিলের পাশেই এসব রেস্তোরাঁর রান্নাঘর। গ্যাস সিলিন্ডারের বোতলগুলোও ভেতর দিকে। ভোক্তারা যে টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছেন তা থেকে রান্নাঘরের দূরত্ব ৪-৫ হাতের বেশি নয়। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তা নিয়েও রয়েছে অগ্নিঝুঁকি। কিন্তু বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। যে কয়টির রয়েছে তাও সিটিং ক্যাপাসিটির তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
উপজেলার যশলং ইউনিয়নের পুরা এলাকার ভোক্তা মোঃ মাসুম হাসান আফিফ বলেন, ঘুরেফিরে প্রায় প্রতি মাসে উপজেলার রেস্তোরাঁগুলোতে পরিবার- বন্ধুদের সাথে যাওয়া হয়। ঢাকায় অগ্নিকান্ডের পর এখন ভেতরে ভয় কাজ করছে। রেস্তোরাঁগুলো দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু কোথায় কি আছে তা বলা মুশকিল। তাই এসব রেস্তোরাঁগুলোর উচিত পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র রাখা এবং সেগুলো ব্যবহারের বিষয়ে ওয়েটার, বাবুর্চি, ক্যাশিয়ার, ম্যানেজারসহ মালিকপক্ষের প্রশিক্ষণ থাকা।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ফায়ার স্টেশন লিডার মোঃ আতিকুর রহমান জানান, আমরা প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করেছি এবং পরিদর্শন করবো। যদি কেউ নিয়ম নির্দেশনা না মানে তাহলে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসলাম হোসাইন জানান, ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে সংশ্লিষ্ট যারা আছে তাদের সাথে নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং নতুন করে যদি কোনো নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টঙ্গীবাড়ীতে অগ্নিঝুঁকিতে সকল হোটেল-রেস্তোরাঁ
আগের পোস্ট