নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈধ সংযোগের চেয়ে অবৈধ সংযোগ বেশি হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গ্যাস না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিল্প কারখানার উৎপাদন। সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীরা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সমগ্র গজারিয়া উপজেলায় তিতাসের বৈধ সংযোগের সংখ্যা ২ হাজার। তবে এই উপজেলাটিতে অবৈধ সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। পাশাপাশি কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং কারখানা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার গ্যাস চুরির ঘটনা ঘটছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কোন প্রকার ঘোষণা বা নোটিশ প্রদান ছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তিতাস কর্তৃপক্ষ যতদিন চাইবে ততদিন এই এলাকার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, গত রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ফলে বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আংশিক, ভবেরচর, বাউশিয়া ও ইমামপুর ইউনিয়নের সকল এলাকার গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় দুই হাজার বৈধ আবাসিক গ্রাহক। অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে এসব এলাকার অধিকাংশ মিল কারখানা।
ভবেরচর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি একজন বৈধ গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে গ্যাস ব্যবহার করছি। গত রবিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছি আমরা। কোনরকমে ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্নাবান্না করছি। এভাবে আর কতদিন? অবৈধ গ্রাহকদের জন্য কেন বৈধ গ্রাহকদের কষ্ট করতে হবে?
আরেক ভুক্তভোগী নবী হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। পরিবার নিয়ে ভবেরচরে ভাড়া থাকি। এতদিন গ্যাসের চুলায় রান্না করতাম। তবে এখন গ্যাস না থাকায় আমাদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। যেহেতু আমরা ভাড়াটিয়া পারছি না মাটির চুলা বানাতে অন্যদিকে গ্যাস সংযোগ না থাকায় অধিকাংশ হোটেল বন্ধ। হোটেল থেকেও খাবার কিনে খেতে পারছি না।
এ বিষয়ে আধুনিক পেপার মিলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনে আমাদের কয়েক কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান না করলে আমাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। আমাদের মত একই অবস্থা বসুন্ধরা টিস্যু পেপার মিল, জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, পলি কেবল ইন্ডাস্ট্রি, প্যাসিফিক ডেনিমস-সহ আরও কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
তিতাস গ্যাসের মেঘনা আঞ্চলিক বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। সকল অবৈধ সংযোগ বন্ধ না হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে না। বৈধ গ্রাহকদের সাময়িক সমস্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার বলেন, কোনরকম ঘোষণা ছাড়া গ্যাস সংযোগ বন্ধ করার বিষয়টি অসংখ্য মানুষ আমাকে জানিয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ বলেন, গজারিয়া উপজেলায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি করা হচ্ছে। সমগ্র গজারিয়া উপজেলায় বৈধ গ্রাহকের সংখ্যা মাত্র ২ হাজারের মতো। তবে অবৈধ সংযোগ রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ১৫টি রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি ঢালাই লোহা এবং চুনা কারখানা। আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বৈধ-অবৈধ সকল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করলো তিতাস, সীমাহীন দূর্ভোগে মানুষ
আগের পোস্ট