নিজস্ব প্রতিবেদক
তাল নিয়ে আমাদের সমাজে নানা প্রবাদ চালু রয়েছে। যেমন ভাদ্র মাস এলেই বলে তালপাকা গরম আবার সবকিছু জট পাকিয়ে গেলে বলা হয় তালগোল পাকিয়ে ফেলা। এরকম আরেকটি প্রবাদ হলো তিল থেকে তাল করা। আবার তাল শব্দটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে শব্দের ব্যবহার যাই হোক না কেন তাল আসলে বাংলার সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফলগুলোর অন্যতম।
বাংলা সনের শ্রাবণ মাসের শেষ থেকেই গ্রাম-গঞ্জের হাটে-বাজারে পাকা তাল উঠতে আরম্ভ করে। তবে ভাদ্র মাসের গরমে বাজারে প্রচুর পাকা তালের সমারোহ দেখতে পাওয়া যায়। ভাদ্র মাসের শুরুতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গোয়ালি মান্দ্রা সাপ্তাহিক হাটে জমে উঠেছে পাকা তালের বেচাকেনা। বাজারে সাধারণ দুই ধরনের তাল রয়েছে। একটির রং কালো আর একটি গাঢ় লালের মাঝে হালকা কালোর ছোপ। তবে কালো রঙের তালের চাহিদাই বেশী। কারণ এতে রস বেশি আর খেতেও মিষ্টি। একটু দূর থেকেই ভেসে আসে মিষ্টি ঘ্রাণ। ছোট বড় নানা সাইজের তাল পাওয়া যায়। প্রতিটি বড় তাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ছোট ও মাঝারি আকারের তাল ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ তাল বিক্রেতা রাজ্জাক জানান, প্রতি বছর এসময়ে পাকা তালের চাহিদা থাকে বেশি। পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মতো তাল পাওয়া যায় না।
শ্রীনগর থেকে তাল কিনতে আসা ক্রেতা আসলাম বলেন, তাল এমন একটি ফল যার সবকিছু খাওয়া হয়। তবে আগেরমতো তালের সেই রমরমা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
গোয়ালি মান্দ্রা বাজারে ষাটোর্ধ্ব বয়সের ক্রেতা খোকা মিয়া বলেন, কালের বিবর্তনে এ উপজেলায় তথা জেলার বিভিন্ন এলাকার তাল গাছ দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। তাল গাছ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাল গাছ থেকে তালের শাঁস, তালের রস থেকে গুঁড় ইত্যাদি আমরা পেয়ে থাকি। কিন্তু এ গাছ রোপণের চাইতে কেটে ফেলা হচ্ছে বেশি।
গোয়ালি মান্দ্রা হাটে পাকা তালে ভরপুর
আগের পোস্ট