নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় যোগ্যতা ও ন্যায্যতার আলোকে ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন গজারিয়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ। গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচিতে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশত সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর আক্তারের কাছে প্রধান সমন্বয়ক মনসুর আলম টিপুর নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।
শিক্ষক নেতা মনসুর আহমেদ টিপু বলেন, মেধাবী শিক্ষকদের রাখতে হলে এ পেশার সামাজিক মর্যাদা, বেতনসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। ১০ম গ্রেড দিলে কাল থেকে দেশের সেরা মেধাবীরা যোগদান করবে। তার ফলে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটা আমূল পরিবর্তন আসবে। আমরা যদি ১০ম গ্রেড পাই তাহলে শুধুমাত্র বেতন স্কেল না পদমর্যাদাও বাড়বে। এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বেতন কাঠামো উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে জাতি যত উন্নত সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থাও ততো উন্নত। তিনি আরো বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষার ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষকরা শিক্ষার সূতিকাগারের কান্ডারি। প্রাথমিক শিক্ষকদের দৃঢ় বিশ্বাস নোবেল বিজয়ী বৈষম্যবিরোধী প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকগণকে কখনো হতাশ করবে না। তারই লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষকগণ তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ বদ্ধপরিকর।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিপ্লোমা পাসের যোগ্যতায় নার্সরা জাতীয় পে-স্কেলের ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন। একইভাবে উচ্চ মাধ্যমিকসহ ৪ বছরের ডিপ্লোমা যোগ্যতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ১০ম গ্রেড, পুলিশের এসআইরা স্নাতক যোগ্যতায় ১০ম গ্রেড এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন হয় ১৩তম গ্রেডে। অথচ এখানে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা এসেছে শিক্ষাসেবায় নিজকে উৎসর্গ করে। তাই, আমাদের বেতন স্কেল সেটা ১০ম গ্রেডে উন্নীতের দাবিতে আমাদের এই মানববন্ধন।
মানববন্ধনে সহকারী এক শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার বলেন, ৯ বছর আগে ২০১৫ সালে সর্বশেষ যে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ওই পে-স্কেলেও প্রাথমিক শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হয়। কিন্তু এই সময়ে যে হারে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, তাতে প্রাথমিক শিক্ষকরা সংসার চালাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায়, জাতির মেরুদন্ড এই শিক্ষকেরা বঞ্চনা এবং বৈষম্যের শিকার হলে জাতির মেধাবিকাশ সম্ভব নয়।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নুরুলদীন দেওয়ান, মেঃ মনসুর আলম টিপু সভাপতি বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী সমাজ, মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, মোঃ আল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক, মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ গিয়াসউদ্দিন প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর আক্তারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন গজারিয়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।