নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় লিজকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। লিজকৃত সম্পত্তি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামের মৃত কবির আহম্মেদের পুত্র জমির মালিক মোস্তফা সেলিম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নকিমেরকান্দি মৌজাস্থিত খতিয়ান নং- এস এ ০৭, বর্তমানে খতিয়ান নং- ২৩, ২৮ দাগ নং- ৪, ৬ মোট ২৩ শতাংশ ভূমি ১৯৮৩ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসছে কবির আহম্মেদের পুত্র মোস্তফা সেলিম। বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল ও তার আপন ভাই গজারিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মন্টু ও তার ভাই সেন্টু মিয়াসহ হারুন অর রশিদ ও সজল গত ১০ জুলাই দুপুর ২টায় বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের শিকদার পেট্রোল পাম্পের পাশে উল্লেখিত তফসিলে বর্ণিত ভূমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে ভূমিতে থাকা সরকারি শতবর্ষী গাছ কর্তন করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের পায়তারা করে। বর্তমানে ঐ স্থানে বালু ভারাটের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিষেধ করলে তারা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারমুখী আচরণ করে। এ অবস্থায় আমি মোস্তফা সেলিম নাঈম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর মহামান্য আদালত ১৪৫ ধারা মোতাবেক নিষেধজ্ঞা জারি করে। কিন্তু বিবাদীগণ বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমার লিজকৃত জমিতে বালু ভরাট করছে। বালু ভরাটের স্থানে বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল ও তার আপন ভাই গজারিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মন্টু ও তার ভাই সেন্টু মিয়াসহ হারুন অর রশিদ ও সজল জমির মালিকানা দাবী করে সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপন করে। এই দখলদারদের বিরুদ্ধে জমির দখল ঠেকাতে জেলা প্রশাসক, আর্মি ক্যাম্প, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), গজারিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর দরখাস্ত করেছেন।
ভুক্তভোগী মোস্তফা সেলিম নাঈম জানান, ইংরেজি ১৯৮৩ সালে আমার বাবা কবির আহাম্মদ বাংলাদেশ সরকার থেকে ৪৭ শতাংশ জায়গা লিজ নেয় এবং ২০১২ সালে তা গেজেট প্রকাশিত হয়। আর এস এস এ খতিয়ানে কবির আহাম্মদের নামে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বাবা মারা যাওয়ার পরে আমি প্রতি বছর লিজ মানি পরিশোধ করে জায়গার ভোগদখলে থাকি। আমি উক্ত সম্পত্তির বাংলা ১৪৩০ পর্যন্ত লিজ মানি পরিশোধ করি। মোট ৪৭ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৩ শতাংশ নবায়ন করা আছে। ১৫ ও ৯ শতাংশ আমাদের কোন কিছু না বলে সিকদার ফিলিং স্টেশনের মালিক আনিসুর রহমান সিকদারকে ১৫ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ জমি ওয়াহেদুজ্জামানকে অনৈতিকভাবে তৎকালীন গজারিয়া উপজেলা ইউএনও হাসান সাদী তাদের দেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জুয়েল, সেন্টু, মন্টু, সজল এবং হারুন আমাদের জায়গায় ১০ তলা ভবন তোলার কাজ শুরু করে। আমাদের টিনের বেড়া দেওয়া ছিল সেটা তারা ভেঙ্গে দেয়। পাশেই একটি মন্দির রয়েছে। বালু ভরাটের কারণে মন্দিরটি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও চরম ক্ষুব্ধ। কিন্তু তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করছে না। আমরা ৫ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ কোর্ট থেকে ১৪৫ জারি করি কিন্তু ওরা তা মানছে না। থানাকে জানিয়েছি তারাও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গত ২৯ জুলাই এসিল্যান্ড মেপে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে গিয়েছিলো, কিন্তু তারা সরকারি কাজে বাধা দিলে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় বালুয়াকান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল ও তার আপন ভাই গজারিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মন্টুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হওয়ায় তারা এখন পলাতক। কিন্তু অজ্ঞাত স্থান থেকে এই হত্যা মামলার আসামীরা নকিমেরকান্দি মৌজাস্থিত খতিয়ান নং- এস এ ০৭, বর্তমানে খতিয়ান নং- ২৩, ২৮ দাগ নং- ৪, ৬ মোট ২৩ শতাংশ ভূমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। জমির মালিক মোস্তফা সেলিম লিজকৃত সম্পত্তি দখলের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।