নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ভাষারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে কাঠের পুল। কেউ চললে মনে হয় যেনো পড়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ পুলটি দিয়েই প্রতিনিয়ত পার হয় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণির লোকজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাষারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার সংযোগস্থল মেঘনা নদীর সাথে সংযোগ খালের উপর নির্মিত এই কাঠের পুলটি কোন সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিপজ্জনক এ পথ মাড়িয়েই চলতে হয় গ্রামবাসীকে। ব্রিজের অভাবে যেনো থমকে গেছে ভাষারচর গ্রামবাসীর স্বপ্ন। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকেরা।
স্থানীয়রা জানায়, মেঘনা নদীর সাথে সংযোগ এ খাল পাড়ি দিতে নৌকা ব্যবহার করতে হতো। দুই বছর আগে গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে কাঠ দিয়ে পুলটি তৈরি করা হয়। এখন মেরামত না করায় পুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের। এখানে ব্রিজ নির্মাণ হলে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। সেই সাথে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার আপামর জনসাধারণ যোগাযোগের সুফল পাবে বলেও মন্তব্য করেছেন সমাজ সচেতনরা।
এ বিষয়ে ভাষারচর গ্রামের তৈয়ব আলী, মান্নান মুন্সি, আব্দুল হকসহ অনেকে জানান, ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে হাই স্কুল কলেজে পড়তে ও চিকিৎসার জন্য তাদের এই পুলটি ব্যবহার করতে হয়। বহুদিন ধরে খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে। কিন্তু তাদের দাবি আজও পূরণ হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল ঢালী বলেন, গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এবার পুল থেকে পড়ে ২ জনের পা ভেঙেছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ব্রীজটি নির্মাণ করা সময়ের দাবি। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ঐখানে ব্রীজ নির্মাণে বিভিন্ন জায়গায় অবহিত করেছি, আশ্বাসও পেয়েছি। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী তাদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
গজারিয়ায় খাল পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পুলই ভরসা
আগের পোস্ট