নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার বাজারে বিভিন্ন ধরণের মসলার দাম তেমনটা বাড়েনি বলে মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিমত প্রকাশ করেছেন। তারা আরো জানিয়েছেন যে, অন্যান্য বছরগুলোতে এ উৎসবকে সামনে রেখে এ ধরণের মসলার দাম অনেকেটাই বেড়ে যায়। এদিকে করোনার সময় এ জাতীয় দ্রব্যের দাম কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে এটি এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণত ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন মসলার দাম বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় উৎসবকে ঘিরে। কিন্তু এবার এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাজারে তেমন মসলার দাম বাড়তে দেখা যায়নি। বরং বর্তমান বাজারে মসলার দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বরং বাজারে অন্যান্য দিবসের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ১শ’ টাকার মতো কমে যেতে দেখা যাচ্ছে। করোনার মহামারীর সময় রোজার ঈদের দিকে জিরা সাড়ে ৪শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। কিন্তু এখন বর্তমান বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে ৩০৫ টাকা কেজিতে। এটি বর্তমানে ভালো লক্ষণ বলে অনেকেই মনে করছেন। ঈদুল আযহার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় চেতনায় পশু কোরবানী করে থাকে। সেই হিসেবে এ সময়টা বেশিরভাগ মুসল্লীরা কোরবানীর মাংস খেয়ে থাকেন। তাই এই সময়টায় মাংস খেতে বিভিন্ন ধরণের মসলার প্রয়োজন দেখা দেয়। এদিকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ সময়টাতে মাংস খাওয়ার কারণে মাংসতে মসলার ব্যবহারও অনেকটা বেড়ে থাকে প্রতিটি ঘরে ঘরে। এছাড়া এ উৎসবে মাংসসহ খিচুরি, সেমাই এবং পোলাও খেয়ে থাকেন বেশিরভাগ লোকজন। এবারের উৎসবে বাজারে এসব জিনিসপত্রের দাম সেইভাবে বাড়েনি বলে ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে। খিচুরির জন্য লাল চাউল স্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের দুধ সেমাই বর্তমানে বাজারে ১শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। পোলাওয়ের চাউল ১শ’ টাকা থেকে ১শ’১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রাণের ১০০ গ্রাম ঘি দেড়শ’ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে এলাচ ৩ হাজার ৮শ’ টাকা কেজি, দারুচিনি ৪শ’ টাকা কেজি, জিরা ৩শ’৫ টাকা কেজি, লবঙ্গ ৮শ’ টাকা কেজি ও কিসমিস সাড়ে ৩শ’ টাকা টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম জানান, এবার চলতি মৌসুমে বাজারে সকল ধরণের মসলার দাম তেমনটা বাড়েনি। এ মুহূর্তে বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এমনটা হয়েছে। এছাড়া বাজার মনিটরিং জোরদার অবস্থায় রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা মার্কেটিং অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মসলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করছি।